অ্যাপ ডেভলেপমেন্টের মাধ্যমে সফল সৌদিপ্রবাসী হাইমচরের শামীম

Samim Hossen (শামীম হোসেন)

সফলতার স্বপ্ন বোনা যেমন সহজ। তেমনই সেই স্বপ্নকে ছোঁয়া খুবই কঠিন। জীবনের প্রতি বিভিন্ন মোহের কারণে সবাই বৃত্তের বাইরে চিন্তা করতে পারেন না। যারা পারেন, তারাই সফল হন। এমন একজন স্বপ্নবাজ ও উদ্যমী তরুণ মো. শামীম হোসেন। যিনি প্রবাস জীবনের পাশাপাশি প্রোগ্রামিং শিখে প্রবাসীদের কথা চিন্তা করে তাদের জন্য তৈরি করেন iqma check online ksa (ইকামা চ্যাক অনলাইন কেএসএ) নামক একটি মোবাইল অ্যাপ যে অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করছে প্রবাসীরা। তেমনি গুগল থেকে শামীমের একাইন্টেও জমা হচ্ছে টাকা। যার ফলে কম্পানীর কাজের পাশে বাড়তি অর্থ উপার্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তরুণ শামীম হোসেন।

জানা যায়, শামিম হোসেন হাইমচর উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের আব্দুল কাদির কবিরাজের সন্তান। ২ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে শামীম হোসেন সবার বড়। তিনি গোবিন্দপুর ছালেহিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ২০২০ সালে জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। ভালো কম্পানীর ভালো বেতনে চাকরি করার পরও ২২ বছর বয়সের শামীম থেমে থাকেনি। সে নতুন কিছু করার চিন্তা করতেন সব সময়। দক্ষিণ এশিয়ার সেরা উদ্যোক্তা মো. জুবায়ের হোসেন bongo academy andriod App devlopment (বঙ্গ একাডেমী এন্ডয়েড অ্যাপ ডেভলেপমেন্ট) কোর্সটিতে অনুপ্রাণিত হয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ধৈর্য সহকারে কোর্স করার পর। সে আরিফুল ইসলাম নামক এক বন্ধুর সাথে পরিকল্পনা করে তৈরি করেন প্রবাসীদের জন্য মোবাইল অ্যাপ। অ্যাপটি যাতে বিভিন্ন দেশের প্রবাসীরা সহজভাবে ব্যবহার করতে পারে আলাদা ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এ অ্যাপটিতে।

শামীমের তৈরি করা অ্যাপটি বর্তমানে দেশী বিদেশী হাজার হাজার প্রবাসী ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছে। যেমনিভাবে উপকৃত হচ্ছে প্রবাসীরা তেমনি শামীম হোসেন ও এই অ্যাপ থেকে ভালো পরিমাণে আয় করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এখানেই থেমে যাননি তিনি নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে অ্যাপ তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। চলতি মাসেই তার আরও দুটি অ্যাপ গুগল প্লে স্টোরে আপলোড দেয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। শামীম হোসেন আসা করে তার তৈরি অ্যাপ খুব শীঘ্রই লাখ লাখ মানুষ ব্যবহার করবে।

শামীম হোসেন জানান, আমি দুই বছর আগে সৌদিআরবে চলে আসি। এখানে আমি ভাল একটি কম্পানীতে চাকরি করি। আমি ১২ ঘণ্টা কাজের পাশাপাশি ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা অ্যাপ ডেভলেপমেন্ট প্রোগ্রামিংয়ে সময় দেই। আমার ইচ্ছা শক্তির কারণে আজ আমি সফল হয়েছি। আমি যে অ্যাপটি তৈরি করছি তা ব্যবহার করে প্রবাসীরা তাদের ভিসা, আকামাসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট হাতের মুঠোয় সহজেই যাচাই করে নিতে পারবেন। ইতোমধ্যে অসংখ্য মানুষ আমার অ্যাপটি ব্যবহার করছেন। তারা এই অ্যাপটির মাধ্যমে উপকৃত হওয়ায় আমাকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতাও জানান। আমার আরও দুইটি অ্যাপ তৈরি করছি যার কাজ চলমান রয়েছে। আমি আশা করি আমার তৈরি করা প্রতিটি অ্যাপ মানুষের কল্যাণে ও উপকারে আসবে।

তিনি বলেন, আমাদের দেশে অনেক ব্যাকার যুবক আছে। যারা শুধু অযুহাত খোঁজে, কোন কাজ করতে চায় না। তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলতে চাই জীবনে কোন কিছু করতে অবস্থান বা পরিস্থিতি কোন বিষয় না, ইচ্ছেশক্তি যথেষ্ট। নিজে চেষ্টা করলে নিজেও একজন উদ্যোক্তা হওয়া যায়।

Leave a Comment